আদিপ্রত্নস্য রেতসো জ্যোতিস্পশ্যন্তি বাসরম্ পরো যদিধ্যতে দিবি উদ্বয়ন্তমসস্পরি জ্যোতিঃ পশ্যন্তা উত্তরং স্বঃ পশ্যন্ত উত্তরং দেবং দেবত্রা সূর্যমগন্ম জ্যোতিরুত্তমমিতি জ্যোতিরুত্তমমিতি ॥ ৭
অন্বয় : (১) আৎ + ইৎ (সায়ণের মতে আদিৎ অনন্তর। শঙ্করের মতে ‘ৎ’ এবং ‘ইৎ’ অর্থশূন্য অংশ, কেবল উচ্চারণের জন্য ব্যবহৃত হইয়াছে; অবশিষ্ট থাকে আ; এই আ ‘পশ্যন্তি’ ক্রিয়ার সহিত যুক্ত) প্রত্নস্য (পুরাতন) রেতসঃ (জগতের বীজভূত সত্তার) জ্যোতিঃ (প্রকাশ) পশ্যন্তি (দর্শন করেন; আ পশ্যন্তি— চতুর্দিকে দর্শন করেন বাসরম্ (দিবালোকের ন্যায় সর্বব্যাপী) পরঃ (সর্বশ্রেষ্ঠ), যৎ (যাহা) ইধ্যতে (দীপ্তি পায়) দিবি (দ্যুলোকে; শঙ্করের মতে ‘পরব্রহ্মে’) [ঋগ্বেদ ৮।৬।৩০]। (২) উৎ (+ অগন্ম, বেদার্থযত্নের মতে উৎ + পশ্যন্তি) বয়ম্ (আমরা) তমসঃ পরি (অন্ধকারের উপরে) জ্যোতিঃ পশ্যন্তঃ (দর্শন করিয়া), উত্তরম্ (শ্রেষ্ঠ) স্বঃ (স্বীয় আত্মাতে বর্তমান) পশ্যন্তঃ উত্তরম্ দেবম্ (দেবতাকে; দ্যুতিযুক্তকে) দেবত্রা (দেবগণের মধ্যে) সূর্যম্ অগন্ম (লাভ করিয়াছি; বৈদিক প্রয়োগ) জ্যোতিঃ উত্তমম্ (সর্বশ্রেষ্ঠ জ্যোতিকে) ইতি জ্যোতিঃ উত্তমম্ ইতি (দ্বিরুক্তি) [ঋগ্বেদ ১।৫০।১০]।
সরলার্থ : যে জ্যোতি দ্যুলোকে (কিংবা পরব্রহ্মে) দীপ্তি পাইতেছে, (ব্ৰহ্মবিদ্গণ) জগতের বীজরূপী এবং দিবালোকের মত সর্বব্যাপী, পুরাতন ও জগৎকারণ সেই পরমজ্যোতি দেখেন। অজ্ঞানরূপ অন্ধকারের অতীত যে শ্রেষ্ঠ জ্যোতি, তাহাকে নিজের হৃদয়ে নিহিত শ্রেষ্ঠ জ্যোতিরূপে দেখিয়া আমরা দেবগনের মধ্যে দ্যুতিমান পরমেশ্বর সর্বোঙম জ্যোতিকেই লাভ করিয়াছি।
মন্তব্য : ১। ৫০।১০ ঋকে ‘স্বঃ পশ্যন্তঃ উত্তরম্’ অংশ নাই; উপনিষদে ইহা সংযোগ করা হইয়াছে। ঋগ্বেদে এই অংশের অর্থ এই— ‘(রজনীর) অন্ধকারের উপরিভাগে যে শ্রেষ্ঠ জ্যোতি (বিরাজমান), সেই জ্যোতি দর্শন করিয়া আমরা দেবগণের মধ্যে দ্যুতিমান সূর্যকে— সেই জ্যোতিকে লাভ করিয়াছি।’ উপরোক্ত ঋক্টি যজুর্বেদে ও অথর্ববেদে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে গৃহীত হইয়াছে।