তদ্ধৈতঘোর আঙ্গিরসঃ কৃষ্ণায় দেবকীপুত্রায়োক্তোবাচাপিপাস এব স বভূব সোহন্তবেলায়ামেতৎ ত্রয়ং প্রতিপদ্যেতাক্ষিতমস্যচ্যুতমসি প্রাণসংশিতমসীতি তত্ৰৈতে দ্বে ঋচৌ ভবতঃ ॥ ৬
অন্বয় : তত্ হ এতৎ (সেই এই তত্ত্বকে) ঘোরঃ আঙ্গিরস : (অঙ্গিরা বংশোদ্ভব ঘোর নামক ঋষি) কৃষ্ণায় দেবকীপুত্রায় (দেবকীনন্দন কৃষ্ণকে) উক্তা (বলিয়া) উবাচ (উপদেশ দিয়াছিলেন) অপিপাসঃ পিপাসাবিহীন, নিঃস্পৃহ) এব সঃ (কৃষ্ণ) বভূব (হইয়াছিলেন)। সঃ (মানুষ) অন্তবেলায়ম্ (মৃত্যুকালে এতৎ ত্রয়ম্ (এই তিন মন্ত্রকে প্রতিপদ্যেত (শরণ গ্রহণ করিবে)—অক্ষিতম্ (অক্ষয়) অসি (হও); অচ্যুতম্ (অচ্যুত, অপরিবর্তনীয়) অসি; প্রাণ-সংশিতম্ (প্রাণের সূক্ষ্মতত্ত্ব) অসি ইতি। তত্র (সে বিষয়ে) এতে দ্বৌ ঋচৌ (এই দুই ঋক্) ভবতঃ।
সরলার্থ : ঘোর আঙ্গিরস ঋষি দেবকীনন্দন কৃষ্ণকে এই তত্ত্ব উপদেশ দিয়াছিলেন। (ইহা শুনিয়া) কৃষ্ণ (সর্ববিষয়ে) নিঃস্পৃহ হইয়াছিলেন। (ঘোর আঙ্গিরস বলিয়াছিলেন) মৃত্যুকালে মানুষ এই তিন মন্ত্র উচ্চারণ করিবে— তুমি অক্ষয়, তুমি অচ্যুত, তুমি প্রাণসংশিত। এ বিষয়ে এই দুইটি ঋক্ আছে—
মন্তব্য : এই মন্ত্রে দেবকীনন্দন কৃষ্ণের উল্লেখ রহিয়াছে। ইনিই মহাভারতের কৃষ্ণ কিনা সে বিষয়ে মতভেদ আছে। ঋগ্বেদেও কৃষ্ণ নামে এক ঋষির নাম পাওয়া যায়। আঙ্গিরস কৃষ্ণ ৮।৮৫ সংখ্যক (বালখিল্য মন্ত্র বাদ দিলে ৮।৭৪) মন্ত্রের রচয়িতা। সেন্টপিটার্সবর্গ অভিধানের মতে এই আঙ্গিরস কৃষ্ণ এবং দেবকীনন্দন কৃষ্ণ একই কৃষ্ণ। প্রাণ—সংশিতম্—শঙ্করের মতে ইহার অর্থ ‘প্রাণের সূক্ষ্মতত্ত্ব’। ‘সংশিত’ অর্থ তীক্ষ্ণকৃত। ‘প্রাণসংশিত’ অর্থ প্রাণ দ্বারা তীক্ষ্ণকৃত অর্থাৎ সঞ্জীবিত। মৃত্যুর পর দেহ নষ্ট হইয়া যায় বটে, কিন্তু অক্ষয় অচ্যুত অবিনশ্বর একটি বস্তু বর্তমান থাকে। ইহারই নাম আত্মা। এই বস্তুকেই এখানে প্রাণসংশিত, অর্থাৎ ‘মৃত্যুর পর যাহা থাকে তাহা প্রাণ দ্বারা সঞ্জীবিত।” কেহ কেহ ‘প্রাণসংশিতম্’ স্থলে ‘প্রাণশংসিতম্’ পাঠ গ্রহণ করিয়া ইহার অর্থ করেন প্রাণ অপেক্ষাও প্রিয়তর বা সুখকর।