তস্মাদাহুঃ সোষ্যত্যসোষ্টেতি পুনরুৎপাদনমেবাস্য তন্মরণমেবা-বভূথঃ ॥ ৫
অন্বয় : তস্মাৎ (সেইজন্য) আহুঃ (বলা হয়)— সোষ্যতি (প্রসব করিবে বা সোম অভিষব করিবে), অসোষ্ট (প্রসব করিয়াছে বা সোম অভিষব করিয়াছে) ইতি; পুনঃ (আবার) উৎপাদনম্ (উৎপত্তি) এব অস্য (মানবের বা যজ্ঞের)। তৎ মরণম্ এব (মানবের মৃত্যুই) অবভূথঃ (যজ্ঞসমাপ্তির পর স্নান ও যজ্ঞপাত্রাদি (ধৌতকরণ)।
সরলার্থ : সেইজন্য (উভয়ের বিষয়েই) লোকে বলে সন্তান প্রসব করিবে বা সোম অভিষব করিবে, সন্তান উৎপন্ন করিয়াছে বা সোম অভিষব করিয়াছে। আবার (উভয়ের বিষয়েই বলা যাইতে পারে)— ইহাই এর উৎপত্তি। সেই পুরুষের মৃত্যুই ‘অবভূত্থ’ (অর্থাৎ যজ্ঞসমাপ্তির পরা স্নান)।
মন্তব্য : ‘সোষ্যতি’ এবং ‘অসোষ্ট’ শব্দদ্বয়ের দুইটি করিয়া অর্থ। কোন প্রসূতির সম্বন্ধে প্রযুক্ত হইলে ইহাদের অর্থ যথাক্রমে ‘প্রসব করিবে’ এবং ‘প্রসব করিয়াছে। যজ্ঞ সম্বন্ধে উক্ত হইলে অর্থ ‘সোম অভিষব করিবে’ এবং ‘সোম অভিষব করিয়াছে’। মানুষের পক্ষে ইহারা জন্ম বুঝায়, যজ্ঞের সম্বন্ধে বুঝায় সোমরসের উৎপত্তি।
পুনঃ উৎপাদনম্ এব—ইহার অর্থ সম্বন্ধে মতভেদ আছে। ভিন্ন ভিন্ন অর্থ এই— (১) পুনঃ অর্থ পুনর্বার যজ্ঞবিষয়ে যে ‘সোষ্যতি’ ও ‘অসোষ্ট’ ব্যবহৃত হয়, তাহাই মানুষের পক্ষে উৎপাদনম্ (জন্ম), অর্থাৎ একই বাক্যের অর্থ সোমের উৎপত্তি, আবার মানুষের উৎপত্তি। এখানে উৎপত্তি বিষয়ে মানুষের সাদৃশ্য রহিয়াছে। (২) পুনঃ উৎপাদনম্—নবজন্ম। (৩) মানুষের নিজের জন্ম হইল উৎপত্তি বা প্রথম উৎপত্তি। যখন তাহার পুত্র হয় তখন সে নিজেই যেন পুত্ররূপে আবার জন্মায়। তাই তাহাকে তাহার পুনর্বার উৎপত্তি বলা যায়। (৪) তাহা পিতা হইতে উৎপাদন বা জন্মলাভের পর মাতা হইতে উৎপাদন বা জন্মলাভ।
ঋষি মানবজীবনের বিশেষ বিশেষ ঘটনার সহিত যজ্ঞসংক্রান্ত বিশেষ বিশেষ ঘটনার সাদৃশ্য দেখাইয়াছেন। কিন্তু এস্থলে কেবল যে ঘটনারই সাদৃশ্য রহিয়াছে, তাহা নহে, ভাষারও সাদৃশ্য রহিয়াছে। উভয়ের বিষয়ই ‘সোষ্যতি’ এবং ‘অসোষ্ট’ ব্যবহার করা যাইতে পারে; আবার ‘উৎপাদন` শব্দও উভয়ের বিষয়েই ব্যবহৃত হইয়া থাকে। ‘পুনঃ’ শব্দর অর্থ ‘আবার’, ‘এবং’ ইত্যাদি।