তস্য প্রাচী দিক্ জুহূর্নাম সহমানা নাম দক্ষিণা রাজ্ঞী নাম প্রতীচী সুভূতা নমোদীচী তাসাং বায়ুর্বৎসঃ স য এতমেবং বায়ুং দিশাং বৎসং বেদ না পুত্ররোদং রোদিতি সোহহমেতমেবং বায়ুং দিশাং বৎসং বেদ মা পুত্ররোদং রুদম্ ॥ ২
অন্বয় : তস্য (তাহার) প্রাচী (পূর্ব) দিক্ জুহুঃ নাম; সহমানা নাম দক্ষিণা (দক্ষিণদিক); রাড্ডী নাম প্রতীচী (পশ্চিমদিক); সুভূতা নাম উদীচী (উত্তরদিক)। তাসাম্ (তাহাদিগের) বায়ুঃ বৎসঃ। সঃ যঃ (৩।৬।৩ মন্তব্য দ্রঃ) এতম্ (ইহাকে) এবম্ (এই প্রকার) বায়ুম্ (বায়ুকে) দিশাম্ (দিকসমূহের) বৎসম্ (বৎসরূপে) বেদ (জানেন), ন (না) পুত্ররোদম্ (পুত্রের মৃত্যুর জন্য রোদন) রোদিতি (রোদন করেন)। সঃ (সেই অর্থাৎ এই প্রকার অভিলাষী) অ (আমি) এতম্ এবম্ বায়ুম্ দিশাম্ বৎসম্ বেদ (জানি), মা (না) পুত্ররোদম্ (রোদন করি)।
সরলার্থ : এই কোশের পূর্বদিকে ‘জুহূ’, দক্ষিণদিক ‘সহমানা’, পশ্চিমদিক ‘রাজ্ঞী’ এবং উত্তরদিক ‘সম্ভুতা’। বায়ু ইহাদের বৎস। যিনি বায়ুকে দিকসমূহের বৎস বলিয়া জানেন, তাঁহাকে পুত্রবিয়োগের জন্য রোদন করিতে হয় না। আমি বায়ুকে দিকসমূহের বৎস বলিয়া জানি, আমাকে যেন পুত্রবিয়োগের জন্য রোদন করিতে না হয়।
মন্তব্য : শঙ্কর ‘জুহূ’, ‘সহমানা’, ‘রাজ্ঞী’ এবং ‘সুভূতা’, এই কয়েকটি কথার এইরকম ব্যাখ্যা দিয়াছেন—পূর্বমুখ হইয়া লোকে হোম করে (জুহ্বতি), এই জন্য পূর্বদিক জুহূ। যমপুরী দক্ষিণদিকে; এই যমপুরীতে পাপিগণ দুঃখ সহ্য করে (সহন্তে), এই জন্য দক্ষিণদিক ‘সহমানা’। রাজা বরুণ পশ্চিমদিকের অধিপতি, এইজন্য পশ্চিমদিক রাজ্ঞী (দিক্ শব্দ শ্রীলিঙ্গ)। সন্ধ্যাকালে পশ্চিম আকাশ রক্তবর্ণ (রাগ) ধারণ করে, এজন্যও পশ্চিম আকাশকে রাজ্ঞী বলা যাইতে পারে। ভূতিমান্ অর্থাৎ ঐশ্বর্যশালী কুবেরাদি উত্তরদিকের অধিপতি, এইজন্য উত্তরদিক সুভূতা।