সর্বে স্বরা ঘোষবন্তো বলবন্তো বক্তব্যা ইন্দ্রে বলং দদানীতি সর্ব
ঊষ্মাণোহগ্রস্তা অনিরস্তা বিবৃতা বক্তব্যাঃ প্রজাপতেরাত্মানং পরিদদানীতি
সর্বে স্পর্শা লেশেনানভিনিহিতা বক্তব্যা মৃত্যোরাত্মানং পরিহরাণীতি ॥৫
অন্বয় : সর্বে স্বরাঃ (সমুদয় স্বর) ঘোষবন্তঃ (‘ঘোষ’ নামক স্বরের ন্যায়) বলবন্তঃ (বলের সহিত) বক্তব্যাঃ (উচ্চারণ করিতে হইবে)— ইন্দ্রে (ইন্দ্র দেবতায়) বলম্ (বলকে) দদানি (দিতেছি) ইতি। সর্বে উষ্মাণঃ (সমুদয় উষ্মবর্ণ) অগ্রস্তাঃ (অগ্রস্তভাবে অর্থাৎ গ্রাস না করিয়া) অনিরস্তাঃ (বাহিরে নিক্ষেপ না করিয়া) বিবৃতাঃ (স্পষ্টভাবে) বক্তব্যাঃ (উচ্চারণ করিতে হইবে); প্রজাপতেঃ (প্রজাপতির; প্রজাপতিক) আত্মানম্ (আপনাকে) পরদদানি (সমর্পণ করি) ইতি। সর্বে স্পর্শাঃ (সমুদয় স্পর্শবর্ণ) লেশেন (অল্পমাত্র) অনভনিহিতাঃ (অন্যবর্ণ হইতে পৃথক ভাবে) বক্তব্যাঃ (উচ্চারণ করিতে হইবে)— মৃত্যোঃ (মৃত্যু হইতে) আত্মানম্ (আপনাকে) পরিহরাণি (রক্ষা করি) ইতি।
সরলার্থ : সমুদয় স্বরকে ‘ঘোষ’ নামক স্বরের ন্যায় সবলে উচ্চারণ করিবে। (আর এই সময়ে চিন্তা করিবে) ‘আমি ইন্দ্রে বল বিধান করি।’ সমুদয় উষ্মবর্ণকে অগ্রস্ত, অনিরস্ত ও বিবৃত করিয়া উচ্চারণ করিবে। (আর এই সময়ে চিন্তা করিবে) ‘আমি প্রজাপতির নিকট আত্মসমর্পণ করি।’ সমুদয় স্পর্ণবর্ণকে ধীরে ধীরে এবং অন্য বর্ণ হইতে পৃথক করিয়া উচ্চারণ করিবে। (আর এই সময়ে চিন্তা করিবে) ‘আমি মৃত্যু হইতে নিজেকে রক্ষা করি।’
মন্তব্য : ঘোষবন্তঃ—With voice (মোক্ষলার); with sound (রাজেন্দ্রলাল মিত্র)। অগ্রস্তাঃ অন্তরপ্রবেশিতাঃ—মুখের অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট নয় এমন (শঙ্কর); Sounded is wardly অর্থাৎ মুখের মধ্যেই উচ্চারিত (রা, ‘ম); As if not swallowed অর্থাৎ বাক্যগুলিকে গ্রাস না করিয়া উচ্চারণ (মোক্ষমুলার)। ‘গ্রাস’ সম্বন্ধে মোক্ষমুলার বলেন — According to Nigveda Pratisakhya it is the stiffening of the root of the tongue in pronunciation. অর্থাৎ ঋগ্বেদ প্রতিশাখ্যের মতে জিহ্বার মূলদেশকে দৃঢ় করিয়া উচ্চারণ করার নাম গ্রাস। অনিরস্তাঃ— বহিঃ অপ্রক্ষিপ্তাঃ; কথাগুলিকে যেন বাহিরে নিক্ষেপ না করা হয় এইরূপ উচ্চারণ (শঙ্কর); not uttered out of the mouth (রা, মি); not as if thrown out (মোক্ষলার)। বিবৃতা:’উচ্চারণস্থানকে বিস্তৃত করিয়া’ distinctly অর্থাৎ স্পষ্টভাবে (রা, মি); well opened অর্থাৎ ঠিকভাবে মুখ খুলিয়া (মোক্ষমুলার)।