তস্য যথা কপ্যাসং পুণ্ডরীকমেবমক্ষিণী তস্যোদিতি নাম স এষ সর্বেভ্যঃ পাপভ্য উদিত উদেতি হ বৈ সর্বেভ্যঃ পাপ্পভ্যো য এবং বেদ ॥ ৭
অন্বয় : তস্য (তাঁহার যথা (যেমন) কপ্যাসম্ (কপি+আসম্, বানরপুচ্ছের নিম্নভাগ, কপিপৃষ্ঠের অধোভাগের ন্যায় আরক্তিম) পুণ্ডরীকম্ (পদ্ম), এবম্ (এই প্রকার) অক্ষিণী (চক্ষুদ্বয়), তস্য উৎ ইতি (‘উৎ’ এই) নাম। সঃ এষঃ (সেই ইনি) সর্বেভ্যঃ পাশ্মভ্যঃ (সমুদয় পাপ হইতে) উদিতঃ (উত্থিত)। উদেতি (উত্থিত হয়) হ বৈ সর্বেভ্যঃ পাশ্মভ্যঃ যঃ (যিনি) এবম্ (এই প্রকার) বেদ (জানেন)।
সরলার্থ : বানরপুচ্ছের নিম্নভাগের ন্যায় আরক্তিম পদ্মের মত তাঁহার দুইটি চক্ষু। তাঁহার নাম ‘উৎ’, কারণ তিনি, সকল পাপ হইতে উত্থিত হইয়াছেন। যিনি ইহা জানেন, তিনিও সব পাপ হইতে উত্তীর্ণ হন।
মন্তব্য : ঋষি বলিতেছেন, অগ্নি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত; অন্তরিক্ষ বায়ুতে, চন্দ্রমা নক্ষত্রে, সূর্যের কৃষ্ণ জ্যোতি ইহার শুভ্র জ্যোতিতে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু আদিত্য-মণ্ডলস্থ পুরুষ অন্য কোন বস্তুতে প্রতিষ্ঠিত নহেন। তিনি সকলকে অতিক্রম করিয়া পাপের অতীত হইয়া বর্তমান রহিয়াছেন। সংক্ষেপে এই ভাব প্রকাশ করিবার জন্য ঋষি ইহার নাম দিয়াছেন ‘উৎ’। ‘উৎ’ শব্দ শ্রেষ্ঠত্ব-প্রকাশক; বৰ্তমান যুগে আমরা ‘ব্রহ্ম’ বলিতে যাহা বুঝি, এই স্থলে রূপকচ্ছলে তাহারই আভাস দেওয়া হইয়াছে।