নিমিত্তং ন সদা চিত্তং সংস্পৃশত্যধ্বসু ত্রিষু।
অনিমিত্তো বিপর্যাসঃ কথং তস্য ভবিষ্যতি॥২৭
অন্বয়: চিত্তম্ (মন); ত্ৰিষু অধ্বসু (তিনকালে [অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ]); সদা নিমিত্তং ন সংস্পৃশতি (বাহ্যবস্তুর সঙ্গে কখনো সংযোগ হয়নি); [যদি তাই হয়] তস্য কথম্ অনিমিত্তঃ বিপর্যাসঃ ভবিষ্যতি (যার অস্তিত্ব নেই সেই বাহ্যবস্তুর অনুভব মন কিভাবে করতে পারে?)।
সরলার্থ: অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ—কোন কালেই মনের সঙ্গে বাহ্যবস্তুর কোন সংযোগ নেই। যেহেতু মনের বাইরে কোনও বস্তু নেই সেহেতু অস্তিত্বহীন বস্তুর মিথ্যা অনুভবই বা কিভাবে হতে পারে?
ব্যাখ্যা: জ্ঞান বস্তু নিরপেক্ষ; শাশ্বত ও চিরন্তন। জ্ঞানই নিত্য।
এই শ্লোকে বলা হয়েছে যে মন কখনো বাহ্যবস্তুর সংস্পর্শে আসে না কারণ এসব বাহ্যবস্তুর কোন অস্তিত্বই নেই। তাহলে প্রশ্ন হল যদি ইতিপূর্বেই মনের সঙ্গে বস্তুর প্রত্যক্ষ যোগ না হয়ে থাকে, তবে একটা ঘট বা সাপকে দেখে মন তাদের কি করে চিনতে পারে?
এইখানেই মনের বিশেষত্ব। যদিও বাইরে কোন বস্তুর অস্তিত্ব নেই, মন নিজের ভিতরে বস্তু সৃষ্টি করে বাইরে আরোপ করে। সমগ্র দৃশ্যমান জগৎ অবিদ্যায় আচ্ছন্ন। এই অবিদ্যাই একের উপর বহু আরোপ করে। জ্ঞান হলে এই দ্বৈতদৃষ্টি মুছে যায়।