তস্ম উ হ দদুস্তে বা এতে পঞ্চান্যে পঞ্চান্যে দশ সন্তস্তৎ কৃতং তস্মাৎ সর্বাসু দিচ্ছ্বন্নমেব দশ কৃতং সৈষা বিবাড়ন্নাদী তয়েদং সর্বং দৃষ্টং সর্বমস্যেদং দৃষ্টং ভবত্যন্নাদো ভবতি য এবং বেদ য এবং বেদ ॥ ৮
অন্বয় : তস্মৈ (সেই ব্রহ্মচারীকে) উ হ দদুঃ (ভিক্ষা দিল)। তে বৈ এতে (সেই এই সমুদয়) পঞ্চ অন্যে (অন্য পাঁচজন; বায়ু এবং তাহার চারি অন্ন অর্থাৎ অগ্নি, আদিত্য, চন্দ্র ও জল), পঞ্চ অন্যে (অপর পাঁচজন; প্রাণ ও তাহার চারিটি খাদ্য অর্থাৎ বাক্, চক্ষু, শ্রোত্র ও মন) দশ সন্তঃ (দশ জন হইয়া) তৎ (তাহা) কৃতম্। তস্মাৎ (সেইজন্য) সর্বাসু দিক্ষু (সমুদয় দিকে) অন্নম্ এব দশ কৃতম্। সা এষা (সেই এই— দশ) বিরাট্ অন্নাদী (অন্নভোক্তা)। তয়া (সেই বিরাট্ দ্বারা) ইদম্ (এই সমুদয়) দৃষ্টম্। সর্বম্ অস্য (ইহার) ইদম্ (এই) দৃষ্টম্ ভবতি (হয়), অন্নাদঃ (অন্নভোক্তা) ভবতি, যঃ (যে) এবম্ (এই প্রকার) বেদ (জানেন), যঃ এবম্ বিদ (দ্বিরুক্তি সমাপ্তিসূচক)।
সরলার্থ : তখন তাঁহাকে ভিক্ষা দেওয়া হইল। সেই প্রথম পাঁচ (বায়ু ও তাহার চারিটি খাদ্য) এবং দ্বিতীয় পাঁচ (প্রাণ ও তাহার চারিটি খাদ্য) মিলিত হইয়া দশ হইলে ‘কৃত’ হয়। এই জন্য সর্বদিকে কৃত ও (তাহার) অন্নের সংখ্যা দশ। ইহাই বিরাট্ ও অন্নভোক্তা। তাহার দ্বারাই এই সব দৃষ্ট হয়। যিনি ইহা জানেন তিনি সর্বদিকে এই সমস্ত দেখিতে পান, তিনি অন্নাদ হন।
মন্তব্য : পাশার যে দিকে চারটি অঙ্ক আছে তাহার নাম কৃত (বা সত্য)। এই ভাবে ত্রেতায় তিনটি, দ্বাপরে দুইটি এবং কলিতে একটি মাত্র অঙ্ক বা সংখ্যা আছে। কৃত অপর তিনটিকে জয় এবং ভক্ষণ করিয়া থাকে অর্থাৎ অন্তর্ভূত করিয়া লয়। এখানে ভক্ষক ও ভুক্তের সংখ্যা দশ; ৪ + ৩ + ২ + ১ = ১০ সুতরাং কৃতই দশ। বায়ুর ও প্রাণের খাদ্যও চারিটি করিয়া। তাই এখানেও ভক্ষক ও ভুক্তের মোট সংখ্যা দশ।
সর্বাসু দিক্ষু অন্নম্ এব দশকৃতম্—এই অংশের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হইতে পারে : (ক) কৃত ও অন্ন মোট দশ, (খ) অন্নই কৃত-সংজ্ঞক দশ, (গ) সর্বদিকে অন্নের সংখ্যা দশ, সুতরাং অন্নই কৃত।