অথ যত্রৈতদাকাশমনুবিষণ্নং চক্ষুঃ স চাক্ষুষঃ পুরুষো দর্শনায় চক্ষুরথ যো বেদেদং জিঘ্রাণীতি স আত্মা গন্ধায় ঘ্রাণমথ যো বেদেদমভিব্যাহরাণীতি স আত্মাহভিব্যাহারায় বাগথ যো বেদেদং শূণবানীতি স আত্মা শ্রবণায় শ্রোত্রম্ ॥ ৪
অন্বয় : অথ যত্র (যে স্থলে) এতৎ [চক্ষুঃ] (এই চক্ষু) আকাশম্ (চক্ষুর যে কৃষ্ণতারা, সেই আকাশ) অনুবিষণ্নম্ (অনুপ্রবিষ্ট) চক্ষুঃ সঃ চাক্ষুষঃ পুরুষঃ (চক্ষুর অধিষ্ঠাতৃ পুরুষ); দর্শনায় (দর্শন করিবার জন্য) চক্ষুঃ। অথ যঃ (যিনি) বেদ (জানেন ইদম্ (ইহাকে) জিঘ্রাণি (ঘ্রাণ করিতে পারি) ইতি, সঃ আত্মা; গন্ধায় (গন্ধ গ্রহণ করিবার জন্য) ঘ্রাণম্ (ঘ্রাণেন্দ্রিয়)। অথ যঃ বেদ ইদম্ অভিব্যাহরাণি (কথা কহিতে পারি) ইতি, সঃ আত্মা; অভিব্যাহারায় (কথা বলার জন্য) বাক্ (বাগিন্দ্রিয়)। অথ যঃ বেদ ইদম্ শূণবানি (শ্রবণ করিতে পারি) ইতি, সঃ আত্মা শ্রবণায় (শ্রবণ করিবার জন্য) শ্রোত্রম্ (শ্রবণেন্দ্রিয়)।
সরলার্থ : এই দর্শনেন্দ্রিয় (চক্ষুর অভ্যন্তরস্থ) আকাশের (অর্থাৎ কৃষ্ণ তারকার যেই জায়গায় অনুপ্রবিষ্ট আছে, সেইখানেই চক্ষুর অধিষ্ঠাতৃ পুরুষ রহিয়াছেন। চক্ষু কেবল দেখিবার জন্য (অর্থাৎ পুরুষই দেখেন, চক্ষু কেবল দেখিবার যন্ত্র মাত্র)। দেহের মধ্যে থাকিয়া যিনি জানেন ‘আমি আঘ্রাণ লইতেছি’ তিনিই আত্মা, নাসিকা কেবল গন্ধ নিবার জন্য। যিনি জানেন ‘আমি বাক্য উচ্চারণ করি’ তিনিই আত্মা; বাগিন্দ্রিয় কেবল বাক্য উচ্চারণ করিবার জন্য। যিনি জানেন ‘আমি শুনিতে পারি’ তিনিই আত্মা, কর্ণ কেবল শুনিবার জন্য।