তদেষ শ্লোকো—ন পশ্যো মৃত্যুং পশ্যতি ন রোগং নোত দুঃখতাং সর্বং হ পশ্যঃ পশ্যতি সর্বমাপ্নোতি সর্বশ ইতি। স একধা ভবতি ত্রিধা ভবতি পঞ্চধা সপ্তধা নবধা চৈব পুনশ্চৈকাদশঃ স্মৃতঃ শতং চ দশ চৈকশ্চ সহস্রাণি চ বিংশতিঃ। আহারশুদ্ধৌ সত্ত্বশুদ্ধিঃ সত্ত্বশুদ্ধৌ ধ্রুবা স্মৃতিঃ স্মৃতিলম্ভে সর্বগ্রন্থীনাং বিপ্রমোক্ষস্তস্মৈমৃদিতষায়ায় তমসম্পারং দর্শয়তি ভগবান্ সনৎকুমারস্তং স্কন্দ ইত্যাচক্ষতে তং স্কন্দ ইত্যাচক্ষতে ॥ ২
অন্বয় : তৎ (সে বিষয়ে) এষঃ (এই) শ্লোকঃ—ন পশ্যঃ (দর্শনকারী) মৃত্যু পশ্যতি (দেখে), ন রোগম্ ন উত দুঃখতাম্ (দুঃখকে)। সর্বম্ হ পশ্যঃ পশ্যতি, সৰ্বম্ আপ্নোতি (প্রাপ্ত হয়), সর্বশঃ (সর্বদা, সর্বত্র, সম্পূর্ণরূপে বা সর্বপ্রকারে) ইতি। সঃ একধা (‘সৃষ্টির পূর্বে’ এক) ভবতি; ত্রিধা (তিন প্রকার; তেজ, অপ্ ও অন্ন) ভবতি, পঞ্চধা (পাঁচ প্রকার), সপ্তধা (সাত প্রকার), নবধা (নয় প্রকার) চ এব; পুনঃ চ একাদশঃ স্মৃতঃ (একাদশ বলিয়া কথিত হন) শতম্ চ দশ চ ১১০), একঃ চ সহস্রাণি চ বিংশতি (=১০২০)। আহারশুদ্ধৌ (আহারশুদ্ধি হইলে) সত্ত্বশুদ্ধিঃ (সত্ত্বের বিশুদ্ধত্ব সত্ত্বশদ্ধৌ (সত্ত্বের শুদ্ধি হইলে) ধ্রুবা (নিশ্চল) স্মৃতিঃ স্মৃতিলম্ভে (স্মৃতিলাভ হইলে) সর্বগ্রন্থীনাম্ (সমুদয় বন্ধনের; প্রন্থি—বন্ধন) বিপ্রমোক্ষঃ (বিশেষরূপে মুক্তি)। তস্মৈ (সেই) মৃদিতষায়ায় (যাহার মলিনতা দূর হইয়াছে, তাহাকে; মৃদিত—বিনষ্ট, বিদূরীত; কষায়—মলিনতা) তমসঃ (অন্ধকারের) পারম্ (অপর পার) দর্শয়তি (দেখাইলেন) ভগবান্ সনৎকুমারঃ। তম্ (সনৎকুমারকে) স্কন্দঃ ইতি (‘স্কন্দ’ এই নাম, স্কন্দ=জ্ঞানী) আচক্ষতে (বলিয়া থাকে), তম্ স্কন্দ ইতি আচক্ষতে (দ্বিরুক্তি সমাপ্তিসূচক)।
সরলার্থ : এ বিষয়ে এই শ্লোক আছে—তত্ত্বদর্শী মৃত্যুদর্শন করেন না, রোগ দুঃখ দর্শন করেন না। তত্ত্বদর্শী সবই দর্শন করেন, এবং সর্বদা সবই লাভ করেন। তিনি সৃষ্টির পূর্বে এক, তারপরে তিন, পাঁচ, সাত, নয় প্রকার হন; আবার তাঁহাকে একাদশ, একশত দশ এবং একহাজার বিশ বলা হয়। আহারশুদ্ধি হইলে সত্ত্বশুদ্ধি হয়; সত্ত্বশুদ্ধি হইলে স্মৃতি নিশ্চল হয়; স্মৃতি লাভ হইলে সমস্ত গ্রন্থির মোচন হয়। ভগবান্ সনৎকুমার নারদের সকল মলিনতা দূর করিয়া তাঁহাকে অন্ধকারের পার দেখাইয়াছিলেন। পণ্ডিতগণ সনৎকুমারকে পরম জ্ঞানী বলিয়া থাকেন।
অন্বয় : ‘আহারশুদ্ধি’ বিষয়ে শঙ্কর বলেন—যাহা আহরণ করা যায়, তাহাই আহার। মানুষ শব্দাদি বিষয়ের জ্ঞান আহারণ করে, সুতরাং বিষয়োপলব্ধিরূপ বিজ্ঞান ও রাগদ্বেষাদি এই বিজ্ঞানের মলা। সুতরাং জ্ঞান যদি রাগদ্বেষাদি বিরহিত হয়, তাহা হইলে তাহাকে আহারশুদ্ধি বলা যাইতে পারে। সত্ত্বশুদ্ধিসত্ত্বের বিশুদ্ধতা; সত্ত্ব বা সত্তা শব্দের মৌলিক অর্থ অস্তিত্ব বা আত্মার স্বভাব। শঙ্করের মতে সত্ত্ব—অন্তঃকরণ। মুণ্ডকোপষিদে (৩।১।৮) ‘জ্ঞানপ্রসাদেন বিশুদ্ধসত্ত্ব’ আছে। এস্থলে সত্ত্ব—অন্তঃকরণ। কঠোপনিষদে আছে ‘মনসঃ সত্ত্বম্ উত্তমম্ (২।৩।৭); এস্থলে সত্ত্ব—বুদ্ধি।