যথা স্বপ্নে দ্বয়াভাসং চিত্তং চলতি মায়য়া।
তথা জাগ্রদ্দ্বয়াভাসং চিত্তং চলতি মায়য়া॥৬১
অন্বয়: যথা স্বপ্নে (যেমন স্বপ্নে); চিত্তং মায়য়া দ্বয়াভাসং চলতি (মন অজ্ঞানতাবশত দুই দেখে ও সেই অনুরূপ কাজ করে [যদিও আসলে দুই নেই]); তথা জাগ্রৎ (সেইরকমই জাগ্রত অবস্থায়); চিত্তং মায়য়া (অবিদ্যার প্রভাবে মন); দ্বয়াভাসং চলতি (দ্বৈতচিন্তা ও সেইমতো কাজ করে)।
সরলার্থ: স্বপ্নে আমি ছাড়া অন্য কেউ নেই। তবু মন দুই দেখে ও সেই অনুরূপ কাজ করে। ঠিক তেমনি জাগ্রত অবস্থাতেও মন অবিদ্যার প্রভাবে দুই দেখে ও সেই অনুযায়ী চিন্তা ও কাজ করে। (বস্তুত দুই নেই, এক। অজ্ঞানতার ফলেই এই ভুল হয়।)
[ব্যাখ্যার জন্য কারিকাভাষ্য ৩।২৯ দ্রষ্টব্য]
অদ্বয়ং চ দ্বয়াভাসং চিত্তং স্বপ্নে ন সংশয়ঃ।
অদ্বয়ং চ দ্বয়াভাসং তথা জাগ্ৰন্ন সংশয়ঃ॥৬২
অন্বয়: স্বপ্নে চ অদ্বয়ং চিত্তম্ (যখন স্বপ্ন দেখি তখন কেবল আমার মনই আছে); দ্বয়াভাসং ন সংশয়ঃ ([তবুও] দুই দেখি এবং এই বিষয়ে আমার মনে সন্দেহমাত্র থাকে না); তথা (সেইভাবে); অদ্বয়ং চ জাগ্রৎ (জাগ্রত অবস্থাতেও আমার মন একাই আছে); দ্বয়াভাসং সংশয়ঃ ন (তবু আমি যে বহু দেখছি এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই)।
সরলার্থ: স্বপ্নকালে মন নিঃসঙ্গ থাকে, তবু দুয়ের (জ্ঞাতা-জ্ঞেয়) অভিজ্ঞতা হয়। সেইভাবে জাগ্রত অবস্থাতেও মনের দ্বৈতভূমিকা থাকে, এবং জ্ঞাতা ও জ্ঞেয়ের ধারণা সৃষ্টি করে। এর ফলে বহু দেখা যায়। আর এই বহুর অস্তিত্ব সম্পর্কে দ্রষ্টার মনে সংশয়মাত্র থাকে না। কিন্তু স্বপ্ন ও জাগ্রত—এই দুই অবস্থার অভিজ্ঞতাই দৃষ্টিবিভ্রম ছাড়া আর কিছু নয়।
[ব্যাখ্যার জন্য কারিকাভাষ্য ৩।৩০ দ্রষ্টব্য]