জাত্যাভাসং চলাভাসং বস্ত্বাভাসং তথৈব চ।
অজাচলমবস্তুত্বং বিজ্ঞানং শান্তমদ্বয়ম্॥৪৫
অন্বয়: জাত্যাভাসম্ (জন্ম হয়নি কিন্তু হয়েছে বলে মনে হয়); চলাভাসম্ (আপাতদৃষ্টিতে সক্রিয়); তথা এব বস্ত্বাভাসম্ (অনুরূপভাবে সত্য বলে মনে হয়); চ (ও); বিজ্ঞানম্ (চৈতন্য); অজাচলম্ (জন্ম নেই এবং নিষ্ক্রিয়); অবস্তুত্বম্ (বস্তু নয় [সুতরাং]); শান্তম্ (অখণ্ড); অদ্বয়ম্ (অদ্বৈত, দুই নেই)।
সরলার্থ: শুদ্ধ চৈতন্য হয়েও মনে হয় যেন তাঁর জন্ম হয়েছে। তিনি সক্রিয় এবং জড়বস্তুরূপে প্রতিভাত হন। প্রকৃতপক্ষে চৈতন্য অনাদি, নিষ্ক্রিয় এবং আদৌ জড়বস্তুর মতো নন। তিনি অখণ্ড এবং অদ্বয়।
ব্যাখ্যা: অদ্বৈতবাদীর মতে এই জগতে কিছুই সত্য নয়। সমগ্র দৃশ্যমান জগৎ মিথ্যা। তাহলে সত্য কি? সত্য হল শুদ্ধ চৈতন্য। এই চৈতন্যকে বর্ণনা করা যায় না। তিনি অনন্য, এক এবং অদ্বিতীয়। তাঁর সম্বন্ধে কিছু বলতে গেলে বলতে হয় ‘তিনি যা তিনি তাই’। এই চৈতন্যই আমাদের আত্মা।
এই চৈতন্যের জন্ম হয় না, তবু মনে হয় যেন জন্ম হয়েছে। যেমন, একটি বালকের জন্ম হল, তার নাম দেওয়া হল দেবদত্ত। কিন্তু আসলে দেবদত্তের জন্ম হয়নি। শুদ্ধ চৈতন্য এখানে দেবদত্তরূপে জন্ম নিয়েছে। অর্থাৎ লোকে মনে করে তার জন্ম হয়েছে। আসলে এর জন্ম জাদুকরের মায়া-হাতির জন্মের মতো। কিছুদিন পরেই দেখছি দেবদত্ত চলেফিরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কে চলছে? দেবদত্তরূপে শুদ্ধ চৈতন্যই চলেফিরে বেড়াচ্ছে। এরপর দেবদত্ত বড় হয়েছে। সে একজন দীর্ঘদেহী যুবক। কে এভাবে বড় হয়ে উঠল? এও সেই একই শুদ্ধ চৈতন্য। আসলে কিন্তু এই চৈতন্যের কোন পরিবর্তনই হয়নি, যা ছিল তাই আছে। কেবলমাত্র দেবদত্তের পরিবর্তনগুলি এই শুদ্ধ চৈতন্যের উপর আরোপিত হয়েছে। এই হল মায়ার কার্য।