গ্রহণাজ্জাগরিতবত্তদ্ধেতুঃ স্বপ্ন ইষ্যতে।
তদ্ধেতুত্বাত্তু তস্যৈব সজ্জাগরিতমিষ্যতে॥৩৭
অন্বয়: জাগরিতবৎ (জাগ্রত অবস্থার মতো); গ্ৰহণাৎ (কার্য-কারণের অভিজ্ঞতা তোমার হয়); স্বপ্নঃ (স্বপ্নাবস্থা); তদ্ধেতুঃ (জাগ্রত অবস্থায় যেসব অভিজ্ঞতা হয় তার কার্য); ইষ্যতে (এই মনে করা হয়); তদ্ধেতুত্বাৎ তু (যেহেতু এটি জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতার ফল); তস্য এব (যে স্বপ্ন দেখেছে কেবল তার কাছে); জাগরিতং সৎ [ইতি] ইষ্যতে (সত্য বলে গ্রহণযোগ্য)।
সরলার্থ: আমাদের স্বপ্নের অভিজ্ঞতা জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতার মতোই। এইজন্যই বলা হয় আমাদের জাগ্রত অবস্থার নানা অভিজ্ঞতাই স্বপ্নে দেখা অভিজ্ঞতার কারণ। আমরা স্বপ্নে যা দেখি তা একান্তভাবে আমাদেরই। অন্যে এতে অংশ নিতে পারে না। আবার যেহেতু স্বপ্নের নানা অভিজ্ঞতা জাগ্রত অবস্থারই প্রতিফলন সেহেতু জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতাও একান্তভাবে আমাদেরই। সেখানেও অপর কেউ অংশ নিতে পারে না। জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতা যদি সত্য হয়, তবে তা কেবলমাত্র আমার কাছেই সত্য, অন্যের কাছে নয়।
ব্যাখ্যা: জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতাও যে মিথ্যা এইখানে সেকথাই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন একথা বলা হচ্ছে? কারণ আমাদের স্বপ্ন জাগ্রতকালের অভিজ্ঞতার প্রতিবিম্ব মাত্র। তাই আমাদের জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতা স্বপ্নের নানা অভিজ্ঞতার কারণ। আমাদের স্বপ্নের অভিজ্ঞতা একান্তভাবে আমাদেরই। আর কারও সেই অভিজ্ঞতা হয় না। আর যেহেতু স্বপ্ন জাগ্রতকালের অভিজ্ঞতারই পুনরাবৃত্তি, সেহেতু স্বপ্নের মতোই জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতাও একান্তভাবে আমাদের। তাতে অপর কারও অংশ নেই। জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতা যদি সত্যও হয় তা কেবল নিজের কাছেই সত্য। যেহেতু তা সকলের কাছে সত্য নয়, অতএব তা আদপেই সত্য নয়।