স্বস্থং শান্তং সনির্বাণমথ্যং সুখমুত্তমম্।
অজমজেন জ্ঞেয়েন সর্বজ্ঞং পরিচক্ষতে॥৪৭
অন্বয়: উত্তমম্ (অনন্ত); সুখম্ (আনন্দ [আত্মজ্ঞান লাভের আনন্দ]); স্বস্থম্ (যখন তুমিই স্বয়ং আত্মা [অর্থাৎ আত্মায় স্থিত]); শান্তম্ (সব দুঃখ দূর হয়েছে); সনির্বাণম্ (মোক্ষলাভ হয়েছে); অকথ্যম্ (বর্ণনার অতীত); অজম্ (যার জন্ম নেই [শাশ্বত]); অজেন (যার জন্ম নেই তার দ্বারা); জ্ঞেয়েন (ব্রহ্মরূপে); সর্বজ্ঞম্ (যিনি সব জানেন); পরিচক্ষতে ([যাঁরা ব্রহ্মকে জেনেছেন] ব্রহ্ম সম্পর্কে [এইভাবে] বলেন)।
সরলার্থ: যাঁরা ব্রহ্মকে জানেন তাঁরা বলেন আত্মজ্ঞান লাভের যে আনন্দ তা আমাদের আত্মাতেই নিহিত রয়েছে। এই আনন্দেই সকল দুঃখের নিবৃত্তি। যখন মানুষ বাইরের কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল নয় তখনি এই আনন্দের উপলব্ধি হয়। একে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এই আনন্দ অনাদি এবং সর্বজ্ঞ। সনাতন ব্রহ্ম ও এই আনন্দ এক ও অভেদ—ব্রহ্মই আনন্দস্বরূপ।
ব্যাখ্যা: ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষের মতে, একমাত্র আত্মজ্ঞান থেকে যে পরমানন্দ লাভ হয় সেই আনন্দ আমাদের আত্মাতেই নিহিত আছে। সেখানেই সকল দুঃখের অবসান। এরই নাম নির্বাণ তথা মোক্ষলাভ। আমাদের সকল বন্ধনের মুক্তি এই আনন্দে। ভাষায় একে বর্ণনা করা যায় না—শুধু যে তাকে জেনেছে, সে-ই পেয়েছে। এই আনন্দ অসীম; ক্ষণস্থায়ী ইন্দ্রিয়সুখের মতো নয়। এই আনন্দ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র, অতএব অনাদি। ব্রহ্ম থেকে এই আনন্দ পৃথক নয়। আনন্দই স্বয়ং ব্রহ্ম।