নাস্বাদয়েৎসুখং তত্র নিঃসঙ্গঃ প্রজ্ঞয়া ভবেৎ।
নিশ্চলং নিশ্চরচ্চিত্তমেকীকুর্যাৎপ্রযত্নতঃ॥৪৫
অন্বয়: তত্র (যখন তুমি ভোগ্যবস্তুর সংস্পর্শে আস); সুখং ন আস্বাদয়েৎ (কিছু সুখ অবশ্যই আছে কিন্তু তার প্রতি আসক্ত হয়ো না); প্রজ্ঞয়া (বিবেক-বৈরাগ্যের সাহায্যে); নিঃসঙ্গঃ ভবেৎ (নির্লিপ্ত থাক); নিশ্চলং নিশ্চরৎ চিত্তম্ (সংযত মনও যদি বহির্মুখী হতে চায়); প্রযত্নতঃ ([তখন] অক্লান্ত চেষ্টায়); একীকুর্যাৎ ([সংবরণ কর এবং] আত্মায় বিলীন করে দাও।
সরলার্থ: ভোগ্যবস্তু থেকে যখন তুমি কিছু সুখও পাও তখনও এর প্রতি আসক্ত হয়ো না; বরং বিবেক-বৈরাগ্যের সাহায্যে এর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখ। এমনকি মন যখন নিজের বশে রয়েছে তখনও সে বহির্মুখী হতে চাইতে পারে। কিন্তু যত কঠিনই হোক না কেন মনের রাশ টেনে ধরে মনকে আত্মায় সমাহিত কর।
ব্যাখ্যা: যদি আত্মাকে জানতে তুমি সত্যই আগ্রহী হও তাহলে কোনভাবেই ইন্দ্রিয়সুখে আসক্ত হয়ো না। এই সুখ অবিদ্যাপ্রসূত এবং আত্মজ্ঞানলাভের অন্তরায়। মানুষের জীবনের চরম লক্ষ্য আত্মাকে জানা। আত্মজ্ঞান ছাড়া আর যা কিছু তা সবই প্রতিবন্ধক; অতএব সেগুলি ত্যাগ করতে হবে। মন আপোষ করতে চাইতে পারে। তখন মনের লাগাম টেনে ধরে অনলস প্রচেষ্টায় মনকে আত্মায় বিলীন করে দিতে হবে।