চিত্তকালা হি যেঽন্তস্তু দ্বয়কালাশ্চ যে বহিঃ।
কল্পিতা এব তে সর্বে বিশেষো নান্যহেতুকঃ॥১৪
অন্বয়: অন্তঃ তু (মনের মধ্যে); যে হি চিত্তকালাঃ (মনগড়া ব্যাপার, এর অস্তিত্ব ততক্ষণই থাকে যতক্ষণ আমি তার অস্তিত্ব আছে বলে কল্পনা করি); যে চ (আর ঐসব বস্তু); বহিঃ (বাইরে); দ্বয়কালাঃ (যতক্ষণ তাদের অস্তিত্ব থাকে এবং আমি তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকি); তে সর্বে এব কল্পিতাঃ (আন্তর এবং বাহ্য উভয় প্রকার বস্তুই কল্পনাপ্রসূত); অন্যহেতুকঃ বিশেষঃ ন ([জাগ্রত ও স্বপ্নের অভিজ্ঞতার মধ্যে] পার্থক্যের কোনও যুক্তি নেই)।
সরলার্থ: মনের মধ্যে কোন বস্তুর অস্তিত্ব ততক্ষণই থাকে যতক্ষণ বস্তুটি আছে বলে আমরা কল্পনা করি। বহির্জগতেও কোন বস্তুর অস্তিত্ব ততক্ষণই থাকে যতক্ষণ আমরা বস্তুটি সম্পর্কে সচেতন থাকি। এই সবকিছুই মিথ্যা। এ দুই অভিজ্ঞতার মধ্যে কোনরকম পার্থক্য আছে ভাবাই অযৌক্তিক।
ব্যাখ্যা: একথা সহজেই বোঝা যায় যে মনের মধ্যে আমরা যা দেখি তা ক্ষণস্থায়ী। ওগুলি মনেরই সৃষ্টি। ঐসব বস্তুর স্থায়িত্ব ততক্ষণই যতক্ষণ আমরা বস্তুটি আছে বলে কল্পনা করি। সুতরাং সেগুলি মিথ্যা—একথা মেনে নিতে পারি। কিন্তু গৌড়পাদ দাবি করছেন যে—আমাদের জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতাও মিথ্যা। কিন্তু আবার এমন সব অভিজ্ঞতাও আছে যা ক্ষণিকের নয়; সেই অতীতকাল থেকে এখনও পর্যন্ত যাদের অস্তিত্ব আছে সেগুলিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেব কেমন করে?
গৌড়পাদ বলছেন যে, এইসব অভিজ্ঞতা দীর্ঘকাল ধরে থাকতে পারে কিন্তু এর দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে এইসব অভিজ্ঞতা সত্য। এগুলি সত্য নয় কারণ এগুলি অন্যের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ একটি ঘটনা অন্য আর একটি ঘটনার উপর নির্ভরশীল। এই ধরনের পর-নির্ভরশীল অভিজ্ঞতা কখনো সত্য হতে পারে না। দৃষ্টান্তস্বরূপ ধরা যাক, দেবদত্ত গরুর দুধ দুইছে। দেবদত্তের অস্তিত্ব ততক্ষণই আছে যতক্ষণ সে দুধ দুইছে। দোহনকার্য ততক্ষণই চলে যতক্ষণ দেবদত্ত সেখানে উপস্থিত। এইভাবে দেখা গেল যে, দেবদত্ত ও দোহনকার্য একে অপরের উপর নির্ভরশীল। একটি ব্যর্থ হলে অন্যটিও ব্যর্থ। এরা একে অপরের দ্বারা সীমাবদ্ধ। সুতরাং এগুলি কখনো সত্য হতে পারে না। কালের একটি বিশেষ মুহূর্তে এগুলি সত্য বটে কিন্তু মুহূর্তটির আগে ও পরে এগুলি সত্য নয়। যেহেতু এগুলি সবসময়ের জন্য সত্য নয় সেহেতু এগুলি মিথ্যা।