উভয়োরপি বৈতথ্যং ভেদানাং স্থানয়োর্যদি।
ক এতান্ বুধ্যতে ভেদান্ কো বৈ তেষাং বিকল্পকঃ॥১১
অন্বয়: যদি উভয়োরপি স্থানয়োঃ (যদি জাগ্রত ও স্বপ্ন উভয় অবস্থাতে); ভেদানাম্ (বিভিন্ন বস্তু); বৈতথ্যম্ (মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়); কঃ (কে); এতান্ ভেদান্ (এইসব বস্তুকে); বুধ্যতে (প্রত্যক্ষ করে); কঃ বৈ (কে আবার); তেষাং বিকল্পকঃ (সেগুলি চিন্তা করে)।
সরলার্থ: যদি জাগ্রত ও স্বপ্ন উভয় অবস্থাই মিথ্যা হয় তবে জ্ঞাতা-জ্ঞেয় সম্পর্ক বলে কিছু থাকতে পারে না। আবার এই দুই অবস্থায় প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাসমূহ যদি মিথ্যা হয় তবে সে অভিজ্ঞতার স্রষ্টাই বা কে?
ব্যাখ্যা: এখানে ‘ভেদ’ শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে এর অর্থ হল বস্তু। কিন্তু এর আক্ষরিক অর্থ ‘পৃথকীকরণ’। এখন আমরা ভেদ অর্থাৎ দুই দেখছি বটে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ধীরে ধীরে আমরা অভেদ অর্থাৎ একের দিকেই এগোচ্ছি। এখন প্রশ্ন হল কে এই ব্যক্তি যিনি এইসব বস্তুকে দেখে এবং সেগুলিকে অসত্য বলে মনে করে। যদি বলা যায় এই জাগ্রত ও স্বপ্ন উভয় অবস্থাই মিথ্যা তবে স্বপ্নটি দেখছে কে? কার নিদ্রাভঙ্গ হচ্ছে? এইসব বস্তু কার অভিজ্ঞতার অঙ্গ? বৌদ্ধদর্শন এবং বেদান্ত এই প্রশ্নের সমাধান করেছেন ভিন্নভাবে। বৌদ্ধদর্শন বলেন যে—আত্মা বলে কিছুই নেই। এঁদের মতে কেউ স্বপ্নও দেখে না আবার কেউ ঘুম থেকে জেগেও ওঠে না। কেবলমাত্র এই অসত্য অভিজ্ঞতাগুলিই আছে, কিন্তু শেষপর্যন্ত অবশিষ্ট আর কিছুই থাকে না, থাকে শুধুমাত্র শূন্য। কিন্তু বেদান্ত বলেন যদি তুমি বল এ জগৎ মিথ্যা তবে কোন একজনকে থাকতে হবে যিনি এই জগৎকে অস্বীকার করবেন। এই জ্ঞাতাটি (যিনি অস্বীকার করছেন) কে? কর্তা ছাড়া কোনও কর্ম হতে পারে কি? অভিজ্ঞতাপ্রাপক ছাড়া কি অভিজ্ঞতা থাকতে পারে? বেদান্ত বলেন আত্মা রয়েছেন আর এই আত্মাই হলেন ব্রহ্ম। সেই চিরন্তন সত্তা অর্থাৎ ব্রহ্ম হলেন সবকিছুর অধিষ্ঠান বা আশ্রয়।