যুঞ্জীত প্রণবে চেতঃ প্রণবো ব্রহ্ম নির্ভয়ম্।
প্রণবে নিত্যযুক্তস্য ন ভয়ং বিদ্যতে ক্বচিৎ॥২৫
অন্বয়: প্রণবে চেতঃ যুঞ্জীত (প্রণবে [ওম্] মন একাগ্র করতে হবে); প্রণবঃ নির্ভয়ং ব্রহ্ম (প্রণবই ব্রহ্ম এবং তিনি অভয় দান করেন); প্রণবে নিত্য যুক্তস্য (যদি প্রণবের সাথে সবসময় যোগ থাকে); ন ভয়ং বিদ্যতে ক্বচিৎ (সাধকের তখন আর কোনও ভয় থাকে না)।
সরলার্থ: মনকে প্রণবে একাগ্র করতে হবে। প্রণবই ব্রহ্ম এবং তিনি সব ভয়ের ঊর্ধ্বে। প্রণবে মন স্থির হলে সাধকের আর কোনও ভয় থাকে না।
ব্যাখ্যা: ‘যুঞ্জীত প্রণবে চেতঃ’—মনকে প্রণবের সাথে যুক্ত রাখতে হবে, স্থির রাখতে হবে। ব্রহ্মরূপে, আমাদের আত্মারূপে এই ওম্-কে ধ্যান করতে হবে। ব্রহ্ম অসীম, অরূপ (কোনও রূপ নেই), নির্গুণ (কোনও গুণ বা উপাধি নেই)। এমন ব্রহ্মকে কিভাবে ধ্যান করব? কাজটি প্রচণ্ড কঠিন হলেও সম্ভব। আমরা হৃদয়ে উজ্জ্বল, জ্যোতির্ময় ওম্-এর কল্পনা করব। আমাদের একথা মনে রাখতে হবে, ওম্ ব্রহ্ম বা আত্মা ছাড়া আর কিছুই নন। এবং আমরাই সেই আত্মা। সেই আত্মাই সকলের আত্মা। ‘প্রণবে নিত্য যুক্তস্য’—‘আমরাই ওম্, আমরাই ব্রহ্ম’, এ সম্পর্কে সবসময় আমাদের সচেতন থাকা উচিত। একথা আমাদের মনে রাখতে হবে।
যদি আমরা এইভাবে ধ্যান করতে পারি তবে আর আমাদের কোনও ভয় থাকবে না। আমরা ভয় পাই কখন? যতক্ষণ আমাদের মধ্যে দ্বিতত্ত্বের বোধ অর্থাৎ দুই বোধ থাকে ততক্ষণ আমরা ভয় থেকে মুক্ত নই। যেমন, আমি তোমাকে দেখি এবং মনে করি তুমি আমার থেকে আলাদা। হয়তো তুমি আমার থেকে শ্রেষ্ঠ তাই তোমার কাছে আমি পরাজিতও হতে পারি। এই দুই বোধ থেকেই আসে দ্বন্দ্ব, ভয় এবং প্রতিযোগিতা। কিন্তু আমার যদি দুই বোধই না থাকে, অর্থাৎ আমি যদি সর্বত্রই এই এক আত্মাকেই দেখি, তবে আর আমি কাকে ভয় করব? আমি তো আর আমাকে ভয় পাই না। ‘আমি’ সর্বত্র রয়েছি, তোমার মধ্যে, আমার মধ্যে, সকলের মধ্যেই ‘আমি’ বিদ্যমান।